×



প্রতিটা উদ্যোক্তাদের জীবনে সফল উদ্যোক্তা হওয়ার পিছনে কিছু গল্প থাকে , বিশেষ করে আমরা যারা নারী উদ্যোক্তারা আছি , অনেক রকম বাধা-বিপত্তি , চড়াই - উৎরাই পেরিয়েই সফলতার মুখ দেখতে  পাই। 


একটা সময় ছিল যখন আমি নিজেকে খুবই সাধারণ একটা মেয়ে বলে মনে করতাম , সব সময় মনে হতো আমাকে দিয়ে হয়তো কিছুই হবে না , পড়াশোনায় ও খুব মেধাবী ছিলাম না কিন্তু চেষ্টা করতাম মনে প্রাণে , যখন যেই কাজটাই করতাম মন প্রাণ দিয়ে করতাম ভালবেসে করতাম । খুব এক্সিলেন্ট রেজাল্ট না হলেও , আমার আগ্রহ এবং চেষ্টা দেখে টিচারাও আমাকে অনেক ভালো জানতো । স্বভাব গত ভাবে আমি ছিলাম খুবই শান্ত স্বভাবের । প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হতাম না , একটু ভীতু  টাইপেরও বলতে পারেন । যেখানে যেতাম বাবাকে সাথে করে নিয়ে যেতাম ।






 খুব ছোটবেলায় আমরা আমাদের মাকে হারিয়েছি , তাই একমাত্র ভরসার জায়গা ছিল আমার বাবা । আমার বাবা ছিল প্রচণ্ড মেধাবী ,কর্মঠ এবং নিজের উপর আত্মবিশ্বাস ছিল প্রবল । বাবা সব সময় বলতেন নিজের কাজগুলো সব সময় নিজেই করার চেষ্টা করবা , খুব প্রয়োজন ছাড়া কারো হেল্প নেয়ার চেষ্টা করবা না , কারো হেল্প নিয়ে কাজ করলে তুমি তার কাছে সারা জীবনের জন্য ঋণী হয়ে যাবা , তাই যতটুকু সম্ভব নিজের কাজ গুলো নিজেই করার চেষ্টা করো । বাবার এই কথাগুলো আমার অন্তরে  বিধে গিয়েছিলো । বাবার মত আমারও নিজের উপর আত্মবিশ্বাসটা সব সময় একটু বেশি । তাই আমিও চেষ্টা করি নিজের কাজগুলো নিজেই সামলিয়ে নিতে ।


আমার উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প : 


ছোটবেলা থেকেই আমার হাতের কাজের উপর আগ্রহ ছিল খুব বেশি । সব সময় কিছু না কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম । আমার মাকে দেখতাম বিভিন্ন রকম হাতের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে কাজের ফাঁকে কিংবা গল্প করতে করতে সুন্দর সুন্দর জিনিস তৈরি করে ফেলত এগুলো দেখতে দেখতে আমার মধ্যে একটা আগ্রহ জন্মে গিয়েছিলো ।  হঠাৎ  একদিন ঘুমের মধ্যে আমার মা আমাদের ছেড়ে চিরতরে চলে গেলেন পরোপারে । সবকিছু কেমন এলোমেলো হয়ে গেল । আমরা ছিলাম চার ভাই বোন । তখন আমরা বেশ ছোট , আমি পড়তাম ষষ্ঠ শ্রেণীতে , ভাই গুলো আরো ছোট , বিপদের সময় বোধহয় আসল মানুষ চেনা যায় , আমাদের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি , দায়িত্ব নেয়ার ভয়ে কেউই এগিয়ে আসে নাই আমাদের পাশে । আমার বাবা একাই সবকিছু সামলিয়েছেন। আমার বাবা আমাদের গর্ব , আমাদের অহংকার । 


যখন একটু বড় হলাম , আস্তে আস্তে নিজেকে প্রস্তুত করলাম মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে । মার স্মৃতিগুলো আঁকড়ে ধরে তার প্রতিভা গুলোকে মাথায় রেখে বিভিন্ন রকম হাতের কাজ দিয়ে শুরু করলাম আমার উদ্যোক্তা জীবন । প্রথম কাজগুলো শুরু করেছিলাম শখের বসে , আস্তে আস্তে এই সখ ই আমার ঘুরে দাঁড়ানোর পথ দেখিয়ে দিল । মরণঘাতী করোনার সময় যখন মানুষ বাসা থেকে বের হতে পারতো না , তখন আমি চিন্তা করলাম এমন কি করা যায় , যেটাতে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি , তখন আমার মনে হল ,যে প্রোডাক্টগুলো নিত্যদিনে আমাদের প্রয়োজন হয় , সেই ধরনের কিছু পণ্য আমি যদি মানুষের ঘরে পৌঁছে দিতে পারি , তাহলে সবাই একটু উপকৃত হবে ,স্বস্তি পাবে । সেই থেকে শুরু হলো আমার অনলাইন বিজনেস। 


এখন আমি কাজ করছি :


খাঁটি সরিষার তেল ও নারিকেল তেল , শ্রীমঙ্গলের বেস্ট কোয়ালিটি চা পাতা , কুমারখালী বিখ্যাত গামছা ও বিভিন্ন ধরনের চাদর দিয়ে। আমার নতুন সংযোজন : এতদিন জেনে আসছি গামছা শুধু মোছার মুছির কাজেই ব্যবহার হয় তাই না ? আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন এই গামছা দিয়ে বিভিন্ জিনিস তৈরি হচ্ছে । সম্প্রতি আমি এই গামছা দিয়ে ই গহনা তৈরির কাজ শুরু  করেছি । সবাই appreciate করেছে আমাকে । আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভাল response ও পাচ্ছি সবার । বাকিটা সকলের সহযোগিতা , দোয়া ও ভালোবাসায় ইনশাআল্লাহ এগিয়ে যাব সফলতার দিকে ।



আমার উদ্যোগের নাম : @Shahnaj's Collection